৳
বারি গার্ডেন বুম স্প্রেয়ার
সঠিক সময়ে পোকামাকড়, রোগ বালাই ও আগাছা দমন না করলে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। ফলগাছে (আম, লিচু ইত্যাদি) বালাইনাশক স্প্রে করা একটি কঠিন কাজ। বর্তমানে বাংলাদেশে বালাইনাশক স্প্রে করার জন্য প্রধানত ফুটপাম্প স্প্রেয়ার প্রচলিত। ফুটপাম্প স্প্রেয়ারের দ্বারা স্প্রে করলে গাছে সমভাবে স্প্রে করা যায় না এবং বালাইনাশকের ৫০-৬০% নষ্ট হয়। ফলে গাছে বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না। হস্তচালিত স্প্রেয়ার মেশিন মূলত অসম স্প্রে এবং চাপ সৃষ্টি করে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির, সময় সাপেক্ষ, শ্রমসাধ্য এবং ধীরগতির। এ সমস্যা সমাধানকল্পে, ফল গাছে সঠিক সময়ে অল্প খরচে পরিমিত উপায়ে বালাইনাশক ব্যবহারের জন্য তিন চাকার রিকশাভ্যানে স্থাপনযোগ্য বুম স্প্রেয়ার উদ্ভাবন করা হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী, দিনাজপুর, ঈশ্বরদী এবং পাহাড়ী অঞ্চলসমূহে ফলের বাগানের ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। এ বারি গার্ডেন বুম স্প্রেয়ার আম, লিচু গাছে সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে বালাইনাশক স্প্রে করার মাধ্যমে অধিক ফল উৎপাদন করাসহ স্বাস্থ্যঝুকি কমাতে ভূমিকা রাখবে।
বৈশিষ্ট্য
যন্ত্র তৈরির উপকরণঃ এমএস রড, এমএস অ্যাঙ্গেলবার, ফ্লাটবার, স্প্রে নজেল, প্লাস্টিক হোজ পাইপ, ডিজেল ইঞ্জিন, পাম্প, রিকসা ভ্যান, নাট-বোল্ট, ইত্যাদি।
যন্ত্রের বিবরণ
কার্যপ্রণালী
যন্ত্রটিতে একটি ডিজেল চালিত ইঞ্জিন, বালাইনাশক ট্যাংক, স্প্রে পাম্প, স্প্রে বুম ও ট্যাংক সাপোর্ট চাকা থাকে। এটি রিক্সা ভ্যানে এমনভাবে স্থাপন করা থাকে যা স্প্রে অংশটি সমান্তরালে উপরের দিকে নড়াচড়ায় সাহায্য করে। যন্ত্র চালু করে উপরের দিকে আম, লিচু ইত্যাদি গাছে স্প্রে করা যায়। রাস্তায় চলাচলের সময় বুম স্প্রে ভাজ করে রাখার ব্যবস্থা আছে। যে গাছে বালাইনাশক স্প্রে করা হবে সেই গাছের পাশে ভ্যানটি দাঁড় করিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রার বালাইনাশক পানির সাথে মিশ্রণ করে ট্যাংক ভর্তি করতে হবে। স্প্রে পাইপের ভাজ খুলে সেটি গাছের উচ্চতা অনুযায়ী বাঁশের সাথে বাঁধতে হবে। এরপর ইঞ্জিন স্টার্ট করে স্প্রে হাতলের ট্রিগার চাপলেই বালাইনাশক স্প্রে হবে। ফল গাছের উচ্চতা এবং পরিধি অনুযায়ী উপর নিচ করে ও ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্প্রে করতে হবে। এক গাছের স্প্রে শেষ হলে পরবর্তী গাছে স্প্রে শুরু করতে হবে। চালককে অবশ্যই সেফটি পোশাক ও মাস্ক পরিধান করে স্প্রে করতে হবে।
কার্যকারিতা