আধুনিক কৃষিতে বেড প্লান্টিং বা বেড তৈরি করে চাষ করা তুলনামূলকভাবে একটি নতুন ও কার্যকর চাষাবাদ পদ্ধতি। এ পদ্ধতির চাষাবাদ ফলন হ্রাস না করে প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ করে। বেড পদ্ধতিতে চাষে ফলন বাড়ে, উৎপাদন খরচ কমে এবং ফসলের অন্যান্য আন্ত:পরিচর্যা সহজ হয়। বেড পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করলে বাতাস সহজেই গাছের শিকড়ের নিকট যেতে পারে। ফলে গাছ বাতাস থেকে বিভিন্ন খাদ্য উপাদান গ্রহণ করতে পারে। বেড পদ্ধতিতে নালায় পানি সেচ দিলে সহজেই অল্প সময়ে অনেক জমিতে পানি সেচ দেওয়া যায়। এতে পানির পরিমাণও প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় কম লাগে। এই পদ্ধতিতে শুকনা বা রবি মৌসুমে পানি যেমন কম লাগে তেমনি বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে নালা দিয়ে সহজেই পানি বের হয়ে যাওয়ায় ফসলের কোন ক্ষতি করতে পারে না। অতিবৃষ্টি বা জলাবদ্ধতার হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য আমাদের দেশে আবহমান কাল থেকেই আলু, ভুট্টা, মরিচ, সবজিসহ বিভিন্ন প্রকার ফসল বেড-নালা তৈরি করে আবাদ করা হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে কোদাল দিয়ে হাতে বেড তৈরি করা, প্রতিবার ঝুঁকে ঝুঁকে একটা একটা করে লাগানো কষ্টকর, সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। কৃষকের কষ্টের বিষয়টি চিন্তা করে, ফসলের ফলন বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে পাওয়ার টিলার চালিত বারি বেড প্লান্টার উদ্ভাবন করা হয়েছে। বর্তমানে কৃষকের মাঠে প্রায় ৫,৫০০ বারি বেড প্লান্টার ব্যবহৃত হচ্ছে।
বৈশিষ্ট্য
যন্ত্র তৈরির উপকরণঃ রোটারি টাইন, শ্যাপ্ট, এমএস এ্যাঙ্গেল, এমএস বার, এমএস শীট, পাইপ, পিনিয়ন, সীড প্লেট, সীড মিটার, প্লাস্টিক টিউব, চেইন, স্প্রোকেট, নাট-বোল্ট, ইত্যাদি।
যন্ত্রের বিবরণ
|
· সার্বিক মাপ (দৈর্ঘ্যÍপ্রস্থÍউচ্চতা) |
: |
১২০০× ৮০০× ৭২০ মিমি |
|
: |
১২-১৬ অশ্বশক্তির পাওয়ার টিলার |
|
: |
সাইফেং ও ডংফেং পাওয়ার টিলার |
|
: |
৬০০ মিমি |
|
: |
জমি চাষ, বীজ বপন, বীজ ঢেকে দেয়া ও বেড তৈরির কাজ |
|
: |
২০০ মিমি |
|
: |
১৫০ মিমি |
|
: |
২৪ টি (বড়- ১৬ টি, ছোট- ৮ টি) |
|
: |
২ টি |
|
: |
২ টি |
|
: |
২ টি |
|
: |
২ টি |
|
: |
ভুট্টা (১ টি), গম (২ টি), ধান (২ টি), সয়াবিন (২ টি), মুগ (২ টি) |
|
: |
১ টি |
|
: |
আছে |
|
: |
২ টি পিনিয়নের মাধ্যমে সুযোগ আছে |
|
: |
১ টি |
|
: |
১ টি (গ্রেড-৪২৮) |
|
: |
২ টি (বেড থেকে বেডের দূরত্ব ঠিক রাখার জন্য রূপান্তরকৃত
|
কার্যপ্রণালী
পাওয়ার টিলারের রোটাভেটর অংশ খুলে নাট বোল্টের সাহায্যে বেড প্লান্টারকে যুক্ত করা হয়। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ডংফেং পাওয়ার টিলারের সাথে ডংফেং মাপের এবং সাইফেং পাওয়ার টিলারের সাথে মাপের বেড প্লান্টার সংযোগ করতে হয়। চাকার শ্যাফটের সাথে স্প্রোকেট স্থাপন করতে হবে। চাকার শ্যাফটের স্প্রোকেট ও মিটারিং শ্যাফটের মধ্যে চেইন দিয়ে সংযোগ দিতে হয়। বীজ হার ঠিক করতে হবে। বেড শেপারের পরিবর্তনশীল অংশ নাড়াচাড়া করে ৬০-৭০ সেমি এর কাঙ্ক্ষিত বেড সাইজ ঠিক করতে হবে। সবগুলো নাট ঠিকমত টাইট করতে হবে। জো সম্পন্ন মাঠে যন্ত্রটিকে নিয়ে প্রথমে পাওয়ার টিলার চালু করতে হবে। অতঃপর রোটারীতে শক্তি সরবরাহ করে চাকার গতি সঞ্চালনের পূর্বেই বীজের লিভারটি চালু করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে সামনের দিকে যন্ত্রটি চালাতে হবে।
যন্ত্রটি বীজ থেকে বীজের নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে একইসাথে একটি বা দুটি লাইনে বীজ বপন করতে পারে। বেড প্লান্টারের মাঝে ৮টি এবং ডান ও বাম পাশে ৮ টি করে মোট ২৪ টি ফাল এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে চাষকৃত নরম মাটি যন্ত্রের দু্ইপাশ থেকে মাঝে জমা হয়ে উঁচু বেড তৈরী করে। যন্ত্রের পেছনে বেড তৈরীর জন্য একটি রোলার ঝুরঝুরো মাটিকে হালকাভাবে চেপে বেডের আকার দেয়। ইনক্লাইন্ড টাইপ বীজ নির্ধারক দ্বারা এ যন্ত্রে বীজ হার নির্ণয় করা হয়। ইনক্লাইন্ড প্লেটের প্রতি খাঁজে বীজ আটকে ধরে নির্দিষ্ট দূরত্বে নির্দিষ্ট হারে সারি বরাবর বীজ পড়ে। প্লেটের খাঁজসংখ্যা ও খাঁজের আকার নির্ভর করে বিভিন্ন বীজের আকার ও যে দূরত্বে বীজ ফেলা হবে তার উপর। উদাহরণস্বরূপ, ভুট্টা ও চীনাবাদামের জন্য ২৪ খাঁজের ৯ মিমি আকারের প্লেট নির্ধারিত। আবার গম, মুগ, মাসকলাই ও ঢেঁড়সের জন্য ৬ মিমি সাইজের ৩৫-৪০ খাঁজের প্লেট ব্যবহার করা হয়।
কার্যকারিতা