পরিবেশবান্ধব উপায়ে সেচ পরিচালনার জন্য উন্নয়নশীল দেশসমূহে সৌর পাম্প জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৭ লক্ষ ৭০ হাজার সেচ পাম্প রয়েছে, যার শতকরা ৮২ ভাগই ডিজেল চালিত এবং যা পরিচালনার জন্য প্রতি বছর প্রায় এক কোটি টন ডিজেল ব্যবহৃত হয়। কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষকের নিকট ডিজেল বিক্রয় করা হয়। সেচ মৌসুমে গ্রামীণ এলাকায় কৃষককে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে জ্বালানী তেল ক্রয় করতে হয় এবং অনেক সময় জ্বালানী তেল দুষ্প্রাপ্য হয়ে যায়। গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশ হওয়ায় অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশে সৌরশক্তির প্রাচুর্যতা রয়েছে। সৌর আলোক শক্তির মাত্রা প্রতিদিন প্রতি বর্গমিটারে ৪.০ থেকে ৬.৫ কিলোওয়াট ঘন্টা এবং প্রখর সূর্যালোক প্রতিদিন ৬-৯ ঘন্টা এর মধ্যে উঠানামা করে। সুতরাং বাংলাদেশের জন্য সৌর শক্তিচালিত পাম্প ব্যবহার প্রাকৃতিকভাবেই উপযোগী। প্রযুক্তির অগ্রসরতায় সোলার প্যানেলের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। বায়ু দুষণ কমাতে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ৪৫০০০ ডিজেল চালিত সেচ পাম্পকে সোলার পাম্পে রুপান্তরিত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকটে এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার জন্য সৌরশক্তিচালিত সেচ পাম্প বারি সোলার পাম্প উদ্ভাবন করা হয়েছে।
বৈশিষ্ট্য
যন্ত্র তৈরির উপকরণঃ সোলার প্যানেল, পাম্প, সাকশন পাইপ (প্লাস্টিক), ডেলিভারি পাইপ (জিআই), অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ ক্লাম্প, নাট-বোল্ট, ইত্যাদি।
যন্ত্রের বিবরণ
|
সৌরচালিত পাম্প |
|
|
· সর্বোচ্চ সাকশন লিফট |
: ৬.০ মিটার |
|
· মোটরের শক্তি |
: ৯০০-৯১০ ওয়াট |
|
· গতি |
: ৩৪০০-৩৫০০ আরপিএম |
|
· মোটরের ধরন |
: ডিসি (৪৮ ভোল্ট) |
|
· সাকশন ও ডেলিভারি পাইপের ব্যাস |
: ৫১ মিমি |
|
সৌর প্যানেল |
|
|
· ধরন |
: মনোক্রিস্টালাইন/ পলিক্রিস্টালাইন |
|
· সর্বোচ্চ শক্তি |
: ৩৫০-৪৫০ ওয়াট |
|
· নমিনাল ভোল্টেজ |
: ২৪ ভোল্ট |
|
· রেটেড ভোল্টেজ |
: ৩৫-৪০ ভোল্ট |
|
· রেটেড কারেন্ট |
: ৮-১০ এ্যাম্পিয়ার |
|
· ওপেন সার্কিট ভোল্টেজ |
: ৪০-৪৫ ভোল্ট |
|
· শর্ট সার্কিট কারেন্ট |
: ৯-১০ এ্যাম্পিয়ার |
|
· ফায়ার রেটিং |
: ক্লাস-এ |
|
· সর্বমোট অ্যারে শক্তি |
: ১২০০-১৪০০ ওয়াট |
|
সোলার হোম সিস্টেম |
|
|
· এলইডি ডিসি সোলার বাল্ব |
: ৮ টি |
|
· ডিসি ফ্যান |
: ৪ টি |
|
· সোলার ব্যাটারি |
: ১ টি (১২ ভোল্ট, ১০০-২০০ এ্যাম্পিয়ার-ঘন্টা) |
|
· প্লাস্টিক ট্যাংক |
: ১ টি (৫০০ লিটার) |
কার্যপ্রণালী
সৌর পাম্প স্থাপন গ্রিড বিদ্যুৎ চালিত বৈদ্যুতিক পাম্পের মত। সৌর মোটরের (ডিসি মোটর) এর ভোল্ট অনুযায়ী সৌর প্যানেলের শ্রেণী বা সমান্তরাল সংযোগ করে মোটর বা পাম্পের সাথে সংযোগ করতে হবে। শ্রেণী সংযোগ করলে ভোল্টেজ ও শক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাণ অপরিবর্তনীয় থাকে। অপরপক্ষে সমান্তরাল সংযোগ করলে ভোল্টেজ একই থাকে কিন্তু বিদ্যুৎ প্রবাহ ও শক্তি বৃদ্ধি পায়। প্রত্যেক সৌর প্যানেলে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক দুইটি পোল থাকে। শ্রেণী ও সমান্তরাল সংযোগ করে কাঙ্ক্ষিত ভোল্ট (৪৮ ভোল্ট) ও শক্তি (১২০০ ওয়াট) পাওয়া যায়। প্যানেলগুলি রৌদ্রোজ্জ্বল স্থানে দক্ষিণমুখী করে ২৩.৫ ডিগ্রী আনত কোণে শক্ত স্থাপনার উপর স্থাপন করতে হবে যাতে বাতাসে বা ঝড়ে প্যানেল পড়ে না যায়। ভূপৃষ্ঠস্থ পানি উঠানোর জন্য পাম্পটি যথাসম্ভব পানির উৎসের নিকটবর্তী স্থাপন করতে হবে তাহলে বেশি পানি ডেলিভারি পাওয়া যাবে। পাম্প শক্ত প্লাটফরম বা মাটির সাথে খুঁটির সাহায্যে শক্তভাবে আটকাতে হবে যাতে নড়াচড়া করতে না পারে। পাম্পের সাকশন পাইপের এক প্রান্ত পাম্পের সাথে ও অন্য প্রান্ত পানির নিচে কমপক্ষে ২ ফুট ডুবানো থাকতে হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ফুট ভালভ মাটিতে স্পর্শ না করে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে সাকশন পাইপ পানির মধ্যে স্থাপন করা যেতে পারে। ভূগর্ভস্থ পানি উঠানোর জন্য অগভীর নলকুপের মত মাটিতে ৫১ মিমি ব্যাসের স্ট্রেইনার ও পাইপ বসিয়ে তার সাথে পাম্প সংযোগ করতে হবে। ডেলিভারি ফিতা বা হোস পাইপ ক্লাম্প দ্বারা শক্তভাবে পাম্পের সাথে লাগাতে হবে। পাম্প চালু করার পূর্বে পাম্পে পানি ঢেলে প্রাইমিং করতে হবে। এখন সুইচ অন করলেই পাম্প চলতে থাকবে ও ডেলিভারি পাইপ দিয়ে পানি নির্গত হতে থাকবে ।
কার্যকারিতা
২,০০,০০০.০০ টাকা (সোলার হোম সিস্টেমসহ)